৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

EN

সেদিন পুরো আদালত নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ , ১৮ নভেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 7 months আগে

ছবির ভদ্রমহিলার নাম হেলেন। সেদিন পুরো আদালত নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল যখন হেলেন টলতে টলতে ভেতরে ঢুকলেন।
তাঁর বয়স তখন ৯১, উচ্চতা পাঁচ ফুটের সামান্য বেশি, কাঁপা হাত, বয়সের ছাপে মুহ্যমান এক দুঃখিনী মুখ। তিনি পরেছিলেন হাসপাতালের গাউন ও হাতকড়া। অপরাধীর চেয়ে তাঁকে বরং বেশি দেখাচ্ছিল পথভোলা এক অশীতিপর বৃদ্ধার মতো।

বিচারক মার্কাস ফাইল উল্টে দেখলেন: গুরুতর চুরির অভিযোগ। তারপর তিনি মাথা তুললেন। কিছু যেন ঠিক মিলছিল না।

হেলেন ও তাঁর স্বামী জর্জ, বয়স ৮৮, একসাথে কাটিয়েছেন একটি দীর্ঘ সাধারণ জীবন। পঁয়ষট্টি বছরের বিবাহিত জীবনে হেলেন কেবল একটি বিষয়কেই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন- জর্জের হার্টের ওষুধ! দিনে বারোটি বড়ি, যা তাকে শ্বাস নিতে সাহায্য করতো।
কিন্তু এক সপ্তাহ আগে একটি মুল্য পরিশোধ সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে তাদের স্বাস্থ্য বীমা বাতিল হয়ে যায়। ফার্মেসিতে গিয়ে হেলেন জানতে পারেন যে, যেই ওষুধ আগে ৫০ ডলারে পাওয়া যেত, এখন তার দাম ৯৪০ ডলার!
তিনি খালি হাতে বাড়ি ফেরেন এবং তিনদিন ধরে দেখেন জর্জের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি বুঝতে পারছিলেন কী ঘটছে। আর তাই কোনো অবস্থাতেই তিনি হাত বা গুটিয়ে বসে থাকতে পারেননি। অতঃপর, মরিয়া হয়ে তিনি আবার ফার্মেসিতে ফেরেন। তিনি অপেক্ষা করেন যতক্ষণ না ফার্মাসিস্ট পেছন ঘোরেন…
কাঁপা হাতে তিনি ব্যাগে ওষুধ ভর্তি করেন।
কিন্তু দরজায় পৌঁছানোর আগেই স্বয়ংক্রিয় সাইরেন বেজে ওঠে— মুহূর্তেই হাতকড়া পড়ে যায় তার দুর্বল কব্জিতে।

আদালতে ভাঙা গলায় তিনি ফিসফিস করে বলেন— আমি চুরি করতে চাইনি মাননীয় বিচারক। আমি শুধু তাকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম।
বিচারক মার্কাস তাঁর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। ভরাট কন্ঠে নির্দেশ দিলেন-
“ওনার শিকল খুলে দাও, এখনই!”
এরপর তিনি বাদি পক্ষের উকিলের দিকে তাকিয়ে বললেন— “গুরুতর চুরি? এই জন্য?”
হেলেন কেঁদে ফেললেন।

বিচারক দীর্ঘশ্বাস ফেলে এমন কথা বললেন যা এক ইতিহাস হয়ে থাকবে। তিনি বলেন-
“এই নারী অপরাধী নন। তিনি আমাদের এই সমাজ ব্যবস্থারই এক শিকার।”
তিনি হেলেনকে খালাস দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সমাজসেবা বিভাগকে ডেকে নির্দেশ দিলেন যেন জর্জ সেদিনই পূর্ণ চিকিৎসা পান!
পরে এক সাংবাদিক যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি শান্তভাবে উত্তর দিলেন-
“কখনও কখনও ন্যায়বিচার মানে হলো বুঝতে পারা, কখন সমাজব্যবস্থা নিজেই অন্যায়ে পরিণত হয়েছে। এই নারী চোর নন। তিনি এক স্ত্রী, যিনি ভালোবাসাকে বেছে নিয়েছেন।”

★ লেখাঃ Farhan Ehsan; তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

November 2025
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
আরও পড়ুন