১লা অক্টোবর, ২০২২ ইং | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

EN

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের আটক নিয়ে বিতর্ক

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ২:৫১ পূর্বাহ্ণ , ১৪ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

আসাদুজ্জামান আসাদ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২২ ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন ব্যক্তিগত আক্রোশ মিটাতেই এই গ্রেফতার। ১২ই মে (মঙ্গলবার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বাগানবাড়ি ও হালদার পাড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই দলের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় তাদের। এর মধ্যে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিকাইল হোসেন ইমেলও রয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করেন। বর্তমানে আটককৃতরা জেল হাজতে রয়েছেন।

এজাহারে লিখা হয়েছে,১২ মে ৮:৩০ মিনিটে সরকারি মহিলা কলেজ হোস্টেল এর সামনে দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাংচুর চলা কালে পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হলে আসামিগণ পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া পুলিশ জানতে পারে সারাদিনই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছিল।আজ রাত ১৩ মে অনুমানিক ১:৩০ মিনিট এর দিকে বাগানবাড়ি খানকাশরীফ হতে ২ফুট ১০”৫টি রাম দা সহ সবাইকে আটক করা হয়।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভন তেপান্তর কে বলেন,পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মিকাইল হোসেন ইমেল কোন ভাবেই এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়।শান্তিবাগ এবং হালদার পাড়ার ছোট ছেলেদের মাঝে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়।যা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমাকে অবগত করে।বিষয়টি জানার পর আমি হিমেল কে ফোন করি এবং সে এলাকার বাহিরে থাকায় তাকে এলাকায় গিয়ে ঝামেলা মিটমাট করার নির্দেশ দেয়।সে তখন তার এলাকায় গিয়ে ঝামেলা মিটমাটের উদ্যোগ নিয়ে বাগানবাড়ি তার বাড়ির সামনে সবাইকে নিয়ে গেলে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়।পুলিশের সাথে কথাবার্তার এক পর্যায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত শাজাহান অতি উৎসাহিত হয়ে হিমেল সহ সেখানে উপস্থিত পৌর ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নাবিল,যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক রানা সহ সবাইকে গ্রেফতার করে।যদিও আমি জানতে পারি যে,হিমেলকে এরেষ্ট করতে অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা অনিহা প্রকাশ করলেও পূর্ব কোন একটি বিষয়ে ওসি তদন্তের সাথে হিমেলের সমস্যা থাকায় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এরেষ্ট করে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে আজ সবাইকে কারাগারে প্রেরণ করেন।আমরা প্রশাসনের এই উদ্দেশ্যে প্রণোদিত মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন তেপান্তর কে বলেন,ছোট ছেলেদের মাঝে ঝামেলা হয়েছিল।গতকাল বাগান বাড়ি এলাকার পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক রানা কে পূর্বশত্রুতার জেরে হালদার পাড়ার কিছু ছেলে হালদার পাড়া সূর্যমূখী স্কুলের সামনে আটক করে।তা জানতে পেরে বাগানবাড়ি এলাকার কয়েকজন তাকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাদের মাঝে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। যা পরে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কেও অবহিত করা হয়।হিমেল তখন আমার এলাকা উত্তর মৌড়াইলে ছিল। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভন এর নির্দেশে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি হিমেল বিষয়টি মিটমাটের জন্য তার এলাকায় গিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার সময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়।পুলিশের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে হিমেল সহ বাগান বাড়ি এলাকার ৩ পৌর ছাত্রলীগের নেতাকে সেখান থেকে আটক করে পুলিশ এবং বাকিদের বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়। পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের আজ কারাগারে প্রেরণ করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল তেপান্তর কে জানান, অতি সামান্য ঘটনায় আমাদের পৌর ছাত্রলীগের ৪নেতা সহ ২২জন কে কারাগারে প্রেরণ দুঃখজনক। প্রশাসনের নিকট আমরা তার প্রতিবাদ জানিয়েছি।

এই মামলা মিথ্যা ও বানোয়াট বলে এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্থরের নেতা কর্মীরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

আরও পড়ুন