২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

EN

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেশন কার্ড বিতরনে অনিয়ম, বঞ্চিতরা ছুটছে মেয়রের কাছে

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ২:১৭ পূর্বাহ্ণ , ৮ মে ২০২০, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

মনির হোসেন টিপু॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় প্রকৃত লোকজন সরকারের রেশন কার্ডের সুবিধে পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে।

করোনা পরিস্থিতিতে বিশেষ ওএমএস সুবিধের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় ৯ হাজার ৬’শ রেশন কার্ড দিয়েছে সরকার। ওয়ার্ড পর্যায়ে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে সুবিধা ভোগীদের তালিকা প্রনয়নের কথা থাকলেও অধিকাংশ ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজের ইচ্ছেমতো তালিকা বানিয়ে কার্ড বিতরন করছেন। সামর্থ্যবানদেরও দিয়েছেন তারা এ সুবিধা।

কাউন্সিলরদের দেয়া তালিকা কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই জমা দেয়া হয় রেশনের জন্যে। এছাড়া প্রত্যেক ওয়ার্ডে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে বিতরন করা হয়। এই টাকাও কাদের মধ্যে বিতরন হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে রেশন কার্ড থেকে বঞ্চিতরা মেয়রের কাছেও ছুটে গেছেন।

জেলা খাদ্য অফিস সুত্র জানিয়েছে, প্রথম দফায় তারা এই পৌরসভার প্রত্যেক ওয়ার্ডের জন্যে ৫’শ করে রেশন কার্ড বরাদ্দ দেন। সেই হিসেবে ১২টি ওয়ার্ডে ৬ হাজার কার্ড দেয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় আরো ৩৬’শ কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রথম দফায় তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর ইতিমধ্যে রেশন বিতরনের কাজও শুরু হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় ওয়ার্ড পিছু যে ৩’শ কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এর তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এখন। রেশন কার্ডধারী একজন মাসে ২০ কেজি করে চাল পাবেন প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে। ভিক্ষুক, ভবঘুরে, সাধারন শ্রমিক, দিনমজুর, রিকসা চালক, ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক, চায়ের দোকানদার, হিজড়া সম্প্রদায়সহ কর্মহীন সকল মানুষ এই বিশেষ ওএমএস সুবিধে ভোগী হবেন বলে খাদ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়।

পৌরসভার সচিব মো: শামসুদ্দিন জানান, ওয়ার্ড পর্যায়ে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে তালিকা প্রনয়ন করার জন্যে তারা নির্দেশনা দিয়েছেন। এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর সভাপতি, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন। তাছাড়া সরকারী কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রতিনিধি, রেডক্রিসেন্ট, এনজিও, ইমাম, পুরোহিত ও গনমাধ্যম প্রতিনিধি কমিটিতে সদস্য থাকবেন।

কিন্তু অভিযোগ মিলেছে কাউন্সিলররা তাদের অনুগত লোকজনকে নিয়ে নামমাত্রই এই কমিটি করেছেন।

পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের দূর্য়োগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সদস্য জানান, তার কাছে স্বাক্ষর নিতে আসার পরই জানতে পারেন তিনি কমিটিতে আছেন। এর আগে কিছুই জানেননা তিনি। আরেকজন সদস্য জানান, একজন এসে খাতায় স্বাক্ষর নিয়ে গেছে।

১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মাহমুদা রহমান জানান, তিনি নিজেই জানেননা রেশন কার্ড কারা পাচ্ছে। ১১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাকে ৫২টি রেশন কার্ড দিয়েছেন। বাকী ১০ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে কোন কার্ডই পাননি।

১০নম্বর ওয়ার্ড এলাকার কাউতলী গ্রামে জেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা তার নিজের বলয়ের অর্ধশতাধিক লোকের নাম রেশন কার্ডের তালিকায় উঠিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

৭নম্বর ওয়ার্ডের চন্ডালখিল গ্রামে এক গোষ্টির লোকজনের মধ্যেই বিতরন করা হয়েছে রেশন কার্ড। গোকর্ণ গ্রাম ছাড়া এই ওয়ার্ডের অন্যান্য গ্রামের সবারই আছে এনিয়ে অভিযোগ।

দ্বিতীয় দফায় বরাদ্দ করা ৩’শ রেশন কার্ডের মধ্যে কাউন্সিলররা দিচ্ছেন ২’শ জনের নাম। মেয়র ৫০ জন আর ভিআইপিদের জন্যে ৫০টি করে কার্ড সংরক্ষন করা হয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল এক নেতা দলের নেতাসহ বিশেষ লোকজনের চাহিদায় এই কার্ড বন্টন করবেন বলে পৌরসভার দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে।

পৌরসভার মেয়র নায়ার কবিরের দাবী কাউন্সিলররা কমিটির মাধ্যমেই তালিকা প্রনয়ন করছেন। তাদের সিগন্যাচার নিয়েই তালিকা জমা দিচ্ছেন। তিনি জানান, প্রথম দফায় প্রত্যেক ওয়ার্ডে যে ৫’শ কার্ড দেয়া হয়েছে সেখান থেকে তিনি কোন কার্ড রাখেননি। দ্বিতীয় দফায় আসা কার্ড থেকে প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে ২’শ করে কার্ড দেয়া হয়েছে। আর সব ওয়ার্ড থেকে ৫০টি করে কার্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে মেয়রের জন্যে। বাকী ৫০টি রাখা হয়েছে রাজনৈতিক নেতার সুপারিশে দেয়ার জন্যে। তিনি বলেন আমার ভাগে রাখা কার্ড থেকে ১২টি ওয়ার্ডে যারা পাইনি তাদেরকে দিয়ে আমি কাভার করার চেষ্টা করছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় এপর্যন্ত খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৮২ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নগদ অর্থ সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়েছে ২লাখ ৩৫হাজার টাকা। শিশু খাদ্য সহায়তার জন্যে বরাদ্দ দেয়া হয় ২লাখ টাকা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

আরও পড়ুন