৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ০৩ দিনের কর্মসূচি বিএনপির
বার্তা সম্পাদক প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ণ , ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
স্টাফ রিপোটার: মোবারক হোসেন চৌধুরী নাছির।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
১৯৭৮ সালের এই দিনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলটির হাল ধরেন। তাঁর নেতৃত্বে তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয় বিএনপি। অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে মুক্তি দিলেও রাজনীতিতে দৃশ্যমান নেই তিনি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ছেলে তারেক রহমান বিদেশে থেকে দল পরিচালনা করছেন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমবার সংকটে পড়েছিল বিএনপি। আশির দশকে জেনারেল হুসেইন মুহম্নদ এরশাদের শাসনামলে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর দ্বিতীয়বার গভীর সংকটে পড়ে দলটি। ২০০৭সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়াসহ বিপুল সংখ্যক শীর্ষ নেতা কারাবন্দি হলে দলটি তৃতীয় দফা নেতৃত্ব সংকটে পড়ে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সময়ের প্রয়োজনে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বহু দলীয় গণতন্ত্র চর্চার পথ খুলে দেন তিনি। পরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর বিএনপি কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম-খুন হয়েছেন। এমনকি লাখ লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে। অবশেষে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসকের পতন ঘটেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি: বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতাদের মতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সফলতার মধ্য দিয়ে বিএনপির ১৫ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। ছাত্র-জনতার নির্দলীয় নেতৃত্ব মেনে নিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শরিক হয়েছিল দলটি। এ আন্দোলনে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির উত্থান ঘটেছে। রাজনৈতিক দলগুলো তা মেনেও নিয়েছে। তাদের মতে, ফ্যাসিবাদী বনাম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যে মেরুকরণ ছিল, তা শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার নতুন মেরুকরণ তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে যে দলটির সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর, সেই দলটিই আজ আবার গণতন্ত্রের নতুন দীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে এগিয়ে যাবে নতুন প্রজন্মের জন্য আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে। অদূর ভবিষ্যতে এটি হবে এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে না ক্ষমতার দম্ভ অথবা আস্ফালন, থাকবে না অত্যাচার-নির্যাতন, থাকবে না দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি। সেখানে থাকবে মেধার মূল্য, যেখানে মানুষ বুকভরে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেবে, যেখানে কথা বলার অধিকার থাকবে, থাকবে ভোটের অধিকার, সর্বোপরি থাকবে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, যেখানে স্বৈরাচারী সরকারের বুলেটের গুলিতে আর কাউকে প্রাণ দিতে হবে না। এ মহান আদর্শে বিশ্বাসী হয়েই বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে যাবে। আজকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে বিএনপি অতীতের ভুলভ্রান্তি দূর করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তিনদিনের কর্মসূচি: এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করা হবে। ঘোষিত কর্মসুচি অনুযায়ী, গতকাল রবিবার, দুপুর ২টায় ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, রমনাতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় দলের প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আজ ১ সেপ্টেম্বর, সোমবার, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহ-ফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতার প্রতি সন্ধন জানানো হবে। তৃতীয় ও শেষ দিনে, ২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। র্যালিটি বাংলামোটর পর্যন্ত অগ্রসর হবে। এতে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাপনী কর্মসূচি সম্পন্ন হবে। দলীয় নেতাদের প্রত্যাশা, এই র্যালি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন কেবল স্মৃতিচারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন উদ্দীপনা সঞ্চারের লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। দলটির নেতারা আশা করছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানুষের ভোটাধিকার আদায়ে বিএনপির এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দলীয় সূত্র আরও জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মসুচির পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও স্থানী-য়ভাবে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।































আপনার মন্তব্য লিখুন