৭ই জুলাই, ২০২২ ইং | ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

EN

বাবা ছেলে যে হোটেলে বয়ের কাজ করেন’ সরকারি ঘর পেলাম না?

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ , ১৭ জুন ২০২২, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 weeks আগে

মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) আজ বৃহস্পতিবার(১৬ জুন) রাত এগারোটার দিকে উত্তরা থেকে সরাইল বাড়িতে আসতে বিমানবন্দরে সামনে সেই যানজট আর গাড়িতে বসা। যানজট শেষ করে ঢাকা থেকে পুর্বাচলের রাস্তায় উঠতে হালকা বৃষ্টি চার দিকে বিদ্যুতের আলো আর রাতের অন্ধকার আকাশ বিজলির সাথেই চিটে পড়ে আলো। গাড়ির কালো গ্লাসে বাহিরে দেখতে ভালোই লাগছে। গাড়িতে এসি চলছে।ঠান্ডায় ঘুমের ঘরে একপলক। হঠাৎ বন্ধু হাবিবের কন্ঠে বলছে উঠ হোটেলে আসছি। চোখ মেলে দেখি ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের পাশে নরসিংদী জন প্রিয় হোটেল। লাল নীল আলো ঝিলমিল করছে। মাইক্রোবাসের দরজা খুলে হোটেলে ঢুকে মুখে পানি দিয়ে ঘুমের ঘরে তারা দিলাম। নজর দিতেই হোটেলের মাঝখানে হাবিব বসা। আমি গিয়ে সের পাশের চেয়ারে বস লাম। হাবিব বলে কি খাবে ভাতের কথা বলেছি। তরকারি মাছ – মাংস সবই আছে। আমি বললাম চলবে। গাড়ির চালকসহ আমরা চারজন সাথে আছে বাবুল ভাই। ভাতের প্লেট দিতে আমার চোখ পরেছে ছোট্ট ছেলেটি, সে প্লেট রেখে চলেগেছে। আমি টাইম দেখলাম তখন রাত একটা। সঙ্গে সঙ্গে মধ্যে বয়সের লোকটি ভাত নিয়ে আসছে। তার পিছনে সেই ছোট্ট ছেলে তিনটি বাটিতে করে ভরতা আর সবজি নিয়ে আসছে। আমি ভাত খাওয়ার ফাঁকে ছেলেটির দিকে থাকাই। ছেলেটার মুখের হাসি তার সাদা চোখের কালো মনি জ্বল- জ্বল করছে। সের দিকে যতো দেখি ততই আমর কিছু জানার ইচ্ছে করছে। খাওয়া শেষ আমি ঔষধ খাব এমন সময় ছেলেটা পানির গ্লাসটি আমার হাতে দিতেই আমি বললাম। তোমার নাম কি? ছেলে বললো আমার নাম মিনহাজ(১২)। তুমি এখানে কি করো আমি বয়ের কাজ করি। আমি জিজ্ঞাসা করতে সেই বলে তিন হাজার টাকা বেতন পাই। তূমি লেখা- পড়া করোনা। মিনহাজ বলে না, আমি বললাম তুমার বাড়ি কোন জায়গা সে বলে সিলেট। আমি বললাম তুমার বাবা কি করে, সে উত্তরে বলে আমার বাবা আর আমি এই হোটেলে বয়ের কাজ করি। তখন আমি বললাম কে তুমার বাবা সে বলে উনি আমার বাবা। দেখি যে লোকটি আমাদেরকে খাবার দিয়েছে সেই ব্যক্তি। ডাকতেই সে আসলো বললো কি হইছে ভাই। আমি বললাম ভাই এ কি আপনার ছেলে। নিজেকে লুকিয়ে বলার চেষ্টা করছে জি ভাই সে আমার ছেলে। কাস্টমারকে খাবার দেয়া থেকে শুরু করে থালা-বাসন ধোয়াসহ বয়ের কাজ করে। মিনহাজের বাবা জিতু মিয়া বলেন, ‘দেড় দুই বছর হয় ছেলেকে নিয়ে হোটেলে কাজ করি। আর ছেলে হোটেলের কাজে লাগিই দিছি। ছেলের লেখা পড়ার কথা বলতেই জিতু মিয়া বলে ভাই, বাড়ি নাই ঘর নাই কিভাবে ছেলে মেয়েকে লেখা- পড়া করাইবো। এই হোটেলে আমার বেতন চার হাজার টাকা ছেলে পাই তিন হাজার। এর মাঝে ঘর ভাড়া ও সংসারে আমার মা- বৌ আরো দুই মেয়ে। তাদের খাবার ও কাপড় চোপড় রোগের ঔষধ মিলিয়ে কোন ভাবে চলতে পারি। খাবারের পর অনেকে খুশি হইয়া কিছু টাকা বকশিস দেয়। এসব মিলিয়ে সংসার চলে যায়। জিতু মিয়াকে বললাম আপনি ভাড়া থাকেন কেন আপনার বাড়ি কোথায়। ভাই সিলেট সুনামগঞ্জ জেলার, জগন্নাথপুর উপজেলার,কলকলি ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের মৃত আরিফুল্লাহ ছেলে জিতু মিয়া রাতে হাইওয়ে পাশে জনপ্রিয় হোটেলের বয় বাবাও বার বছরের ছেলে মিনহাজকে নিয়ে বলেন, বাড়ি নাই ঘর নাই বাড়ি না থাকলে কোথায় থাকবো। আমি বললাম,যাদের বাড়িঘর নাই আশ্রয়হীন তাদেরকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছে আপনি কি ওই আশ্রয় প্রকল্প ঘর পেয়েছেন কি না। জিতু মিয়া বলেন, আমার মতো মানুষ সরকারি ঘর পেলাম না?এ পযর্ন্ত তিন বার খবর পেয়ে এলাকায় গেলাম জনপ্রতিনিধি মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের কাছে। ভাই গেলে বলে পরে আসবা। তোমার নাম এখন দেওয়া হয়নি আবার দেওয়া হবে। এই করে নরসিংদী থেকে সিলেট যেতে দুই হাজার টাকা খরচা হয়। বার-বার কোথায় টাকা পাবো। আর গেলে চেয়ারম্যান বলে এখন না পরে আইস। ভাই আমরা কি ঘর পামু। আশ্রয়হীনদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আশ্রয় প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন প্রত্যেক উপজেলায় প্রত্যেক ইউনিয়নে প্রত্যেক মহল্লায়। আপনি পাবেন না কেন! আপনিও পাবেন। আপনাদের জন্য এই প্রকল্পের কাজ চলছে। আমি বললাম জিতু ভাই আপনি আপনার উপজেলার ইউএনও সাহেবের সাতে দেখা করেন। উনাকে আপনার এই কথাগুলো বলেন,উত্তরে জিতু মিয়া বলেন,আমরা তো উনাকে চিনি না চেয়ারম্যানের নিকট আমি দুই- তিনবার যাওয়ার পর দেম দিচ্ছি বলে সময় পার করছে, শুনছি আমাদের জন্য সরকার ঘরের ব্যবস্থা করেছে কিন্তু আমরা ঘর পাই না-কেন ??

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ করছি  আপনাদের দৃষ্টিগোচর হলে আশ্রয়হীন জিতু মিয়াকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আশ্রয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করবেন না। আশা করবো জগন্নাথপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মহোদয় আছেন অবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।মো. জিতু মিয়া পিতা মৃত আরিফুল্লাহ। গ্রাম- সাদিপুর – ইউনিয়ন- কলকলি- উপজেলার জগন্নাথপুর – সুনামগঞ্জ- সিলেট।। মোবাইল নং- ০১৭০৬১৭৯৫১০

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

June 2022
M T W T F S S
« May   Jul »
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
আরও পড়ুন