২১শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং | ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

EN

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ , ৮ ডিসেম্বর ২০২১, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে

মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকন্ঞ্জি:আজ বুধবার (৮ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন সকাল ৯টার দিকে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল জোনের প্রধান জহুর আহমেদ চৌধুরী স্থানীয় পুরাতন কাচারী প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে শত্রæমুক্ত ঘোষনা দেন। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও মিলন মেলার আয়োজন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন কমিটি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে শত্রু মুক্ত করতে ৩০ নভেম্বর থেকে জেলার আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় মিত্রবাহিনী পাকবাহিনীর ওপর বেপরোয়া আক্রমণ চালাতে থাকে। ১ ডিসেম্বর আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় ২০ পাকিস্তানী সৈন্য নিহত হয়। ৩ ডিসেম্বর আখাউড়ার আজমপুরে প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। সেখানে ১১ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। শহীদ হন ৩ মুক্তিযোদ্ধা।

এরই মধ্যে বিজয়নগর উপজেলার মেরাশানী, সিঙ্গারবিল, মুকুন্দপুর, হরষপুর, আখাউড়া উপজেলার আজমপুর, রাজাপুর এলাকা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে। ৪ ডিসেম্বর পাক হানাদাররা পিছু হটতে থাকলে আখাউড়া অনেকটাই শত্রæমুক্ত হয়। এখানে রেলওয়ে স্টেশনের যুদ্ধে পাক বাহিনীর দু’শতাধিক সেনা হতাহত হয়। ৬ ডিসেম্বর আখাউড়া সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়।

এরপর চলতে থাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত করার প্রস্তুতি। মুক্তিবাহিনীর একটি অংশ কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে এবং মিত্রবাহিনীর ৫৭তম মাউন্ট ডিভিশন রেজিমেন্টের সদস্যরা আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেললাইন ও উজানিসার সড়ক দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। শহরের চারিদিকে মুক্তিবাহিনী অবস্থান নিতে থাকায় ৬ ডিসেম্বর পাক সেনারা পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজাকারদের সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের অধ্যাপক কে.এম লুৎফুর রহমানসহ জেলা কারাগারে আটক অর্ধশত বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে চোখ বেঁধে শহরের করুলিয়া খালের পাড়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
৭ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে পাকিস্তানীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছেড়ে আশুগঞ্জের দিকে পালাতে থাকে। পরে ৮ ডিসেম্বর কোনও ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শত্রæমুক্ত হয়।
৮ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল যুদ্ধের পরিচালনাকারী জহুর আহমেদ চৌধুরী স্থানীয় পুরাতন কাচারী প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। একই দিন সন্ধ্যায় জেলার সরাইল উপজেলা শত্রæমুক্ত হয়।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও মিলন মেলার আয়োজন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন কমিটি।

কমিটির কর্মসূচী অনুযায়ী বুধবার সকাল ১০টায় স্থানীয় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্ত¡রে অনুষ্ঠিতব্য মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও মিলন মেলায় প্রধান অতিথি থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খাঁন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবির।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

December 2021
M T W T F S S
« Nov   Jan »
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
আরও পড়ুন