৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

EN

খুনের প্রতিশোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চরচারতলা গ্রামে ৪ মাস ধরে আওয়ামীলীগ নেতার নৈরাজ্য হামলা, ভাঙ্গচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ণ , ২৭ মে ২০২১, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

মোঃনিয়ামুলআকন্ঞ্জি,স্টাফ রিপোর্টার :ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের চরচারতলা গ্রামের শতাধিক পরিবার। আতঙ্ক ও ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন হাজারো নারী-পুরুষ। উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির ভাই জামাল মুন্সি হত্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি করেন গ্রামে ।

গত ৪ মাস ধরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙ্গচুর,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। তবে এব্যাপারে স্থানীয় থানা পুলিশের নিরবতার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার অনুগত হয়েই কাজ করছে বলে অভিযোগ।

হামলা-ভাঙ্গচুরের কোন মামলা নেয়নি থানা । তবে এ ঘটনায় আদালতে ৮টি মামলা হয়েছে। সবকটি মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সিকে। মামলাগুলো তদন্ত করছে পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

শুধু কান্নাই সম্বল বৃদ্ধ হালেমা খাতুনের। স্বামী নেই। ৪ সন্তানের ৩ জনই প্রতিবন্ধী। আরেক ছেলে প্রবাসী। লুটপাটে সবার ঘরই এখন ফাকা। ঘরে কোন খাটপালঙ্ক নেই। পানির মোটর,ফ্যান সবই লুট হয়ে গেছে। রান্নাবান্না করে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। শূন্য একটি ঘর দেখিয়ে কাদঁছিলেন অনবরত। আশুগঞ্জের চরচারতলার খন্দকার বাড়ির আলী রাজা খন্দকারের স্ত্রী হালিমা। ফরিদা বেগমের ৪০ বছরের সাজানো সংসারের কোন কিছুই নেই। লুটপাটে শূন্য তার ঘরও। আলমারী ভেঙ্গে সোনা-গহনা সব কিছুই নিয়ে গেছে সরকারবাড়ি আর মুন্সিবাড়ির লোকজন। জানুয়ারী মাসে তার ঘরে হামলা হওয়ার কয়েকদিন আগে ৪লাখ টাকা খরচ করে ঘরে টাইলস বসিয়ে ছিলেন। আরো সাজসজ্জা করেছিলেন। সেই ঘরে এখন ধ্বংসের ছাপ। স্বামী সালাউদ্দিন মিয়া ছাড়াও তার দুই মেয়ের জামাই প্রবাসী। ফলে দামী জিনিসপত্রে ঠাসা ছিলো এই ঘর। খন্দকার বাড়ি ছাড়াও হামলা-লুটপাটে নি:স্ব চরচারতলার এমন আরো অনেক পরিবার।

লতিফ বাড়ির ধনাঢ্য সেলিম পারভেজের ডুপ্লেক্স বাসভবনের শুধু ইটগুলো ছাড়া কোন কিছুই নেই। লুট করে নেয়া হয়েছে মসজিদের পাখাও। কোন কোন বাড়িতে অবস্থানকারী মহিলাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। বাড়ি ছাড়ার জন্যে হুমকী দেয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে এপর্যন্ত লতিফ বাড়ি, খাঁ বাড়ি, খন্দকার বাড়ি ও নাগর বাড়ি বংশের তিন শতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটতরাজ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য চরচারতলা গ্রামের লতিফ বাড়ি ও মুন্সি বাড়ি গোষ্ঠির মধ্যে ঝগড়ায় গত ২২ জানুয়ারী রাতে টেঁটার আঘাতে খুন হন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক হানিফ মুন্সির ভাই জামাল মুন্সি। এ হত্যা ঘটনায় থানায় ২৭ জনের নামে মামলা হয়। এরমধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু খুনের প্রতিশোধে গ্রামে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যরা।

চেয়ারম্যান হানিফের নেতৃত্বে তার ভাই ও পরিবারের সদস্য ফাইজুর,রুবেল মুন্সি,রুমেল মুন্সি,রনি মুন্সি,আরিফ মুন্সি,জনি মুন্সি,সাগর মুন্সি,পায়েল মুন্সি,কামাল মুন্সি,চঞ্চল মুন্সি,সজল মুন্সি,হ্নদয়,বাছির,উজ্জল মুন্সি,মোমিন মুন্সি প্রকাশ মোমিন ডাকাত প্রতিদিনই কোন কোন বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙ্গচুর,লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করছেন বলে অভিযোগ করেন প্রতিপক্ষের লোকজন।

এখনও গ্রামে পালা করে ৪ সদস্যের পুলিশ দল অবস্থান করলেও তারা রুখতে পারছেনা এই ঘটনা। অত্যাচারের শিকার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ উপজেলা চেয়ারম্যানের কথায় উঠেন বসেন। থানায় মামলা দিতে গেলেও ওসি ফিরিয়ে দিয়েছেন তাদের।

উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান লিমা সুলতানা জানান,তার বাবার বাড়ি চরচারতলায়। চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকেও রেহায় দেয়নি। ৫ ভাই তার। তাদের সবার ঘর থেকে রাতে রাতে সব মালামাল লুট করে নেয়া হয়েছে। ঘরের মহিলাদের পর্যন্ত অত্যাচার করা হয়েছে। তার এক ভাইয়ের ৭০ লাখ টাকা দামের একটি নৌকা লুট করে নেয়া হয়। হত্যা ঘটনার ৩ দিন পর নৌকাটি চেয়ারম্যানের ভাই উজ্জল মুন্সি,চাচাতো ভাই আরমান মুন্সি ও ভাতিজা সুজন মুন্সি নৌকাটি নিয়ে যান বলে জানান তিনি। নৌকাটি উদ্ধারে ওসির সহায়তা চাইলে তিনি লিমার সঙ্গে রাগত সুরে কথা বলেন। লিমা বলেন, ওসিকে বলেছিলাম আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এরা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। আপনি দু’জন ফোর্স দিলে, আমি নৌকাটা আমার জিম্মায় সরিয়ে নিতে পারবো। এরপরই তিনি বলেন, ‘আপনি আমাকে ফোন দেন কেন। হানিফ ভাইকে ফোন দেন।’ এরপর হানিফ ভাইকে ফোন দিলে তিনি প্রথমে বলেন তার পুত ভাতিজারা ঘুমাচ্ছে। এরপর আমি নিজে নৌকার কাছে গিয়ে তার পুত-ভাতিজা কারা কারা সেখানে রয়েছে তাদের নাম বলার পর হানিফ মুন্সি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বলেন-‘ এই কুত্তার বাচ্চা তুই সেখানে গেছছ কেরে। আবার বেমাছ, তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করতাছে। তুই আ আমি এইডা দেখতাছি।’ এরপর অফিসে গিয়ে প্রতিদিনই নৌকাটির জন্যে তার কাছে কান্নাকাটি করি। ১৭দিনের মাথায় নৌকাটি কেটে বিক্রি করে দেয়া হয়। আমার ভাইয়ের বিল্ডিং ভাঙ্গার সময় পুলিশ নিয়ে যাওয়ার কারণেও আতিথ্য ও তিনি আমাকে চাপ দেন। ফেরীঘাটে আমার ভাইদের দুটি ভাতের হোটেল দখল করে এর ভাড়া চেয়ারম্যান নিয়ে যাচ্ছেন। তেলের দোকান ছিলো,সেটি লুটপাট করে তাদের সাইবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। লতিবাড়ির মানুষের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের লোকজনের দখলে । জমির ফসলও তারাই নিয়ে গেছে।

রবিবার সরজমিনে চরচারতলায় গেলে অনেকে জানান,উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফের লোকজন জমিতে লাল নিশান উড়িয়ে দিয়ে ঘোষণা দেন সব জমি চেয়ারম্যান হানিফের। এরপর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল নিয়ে যান। আবু শহিদ মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান,কিছু বাড়ি থেকে মালামাল লুট করে নেয়ার আগে উপজেলা চেয়ারম্যান তার অনুগত পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকদের সেখানে নিয়ে আসেন। এমন একটা ভাব বুঝানো হয় যে,মালামালগুলো তারা হত্যা মামলার আসামীদের আত্বীয়-স্বজনের কাছে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। সেসময় ওই সাংবাদিকরা ভিডিও করে। এই আনুষ্ঠানিকতার পরই মালামালগ

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

May 2021
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
আরও পড়ুন