২৬শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

EN

করোনায় আক্রান্ত কি না নিশ্চিত হতে যেসব পরীক্ষা করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১১:২১ অপরাহ্ণ , ১৪ নভেম্বর ২০২০, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 12 months আগে

মো. আজহার উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার।। বিশ্বব্যাপী এখন আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯। নিয়ন্ত্রণে আসার কোনও নামই নিচ্ছে না প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। যেন বিশ্বব্যাপী ত্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভাইরাস। এরই মধ্যে ১০৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯। বাংলাদেশেও চার লক্ষ ত্রিশ হাজার চারশত ছিয়ানব্বই জন করোনা আক্রান্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে ছয় হাজার একশ তিয়াত্তর জন মারা গেছেন।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৫৩৫জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৪২জন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছে ২৪৩০জন। এখন জেলায় আক্রান্ত সংখ্যা কমলেও নমুনা সংগ্রহ সংখ্যাও কমেছে।

করোনা আক্রান্তের লক্ষণগুলো অনেকটা সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই। এখন আবহাওয়া বদলাচ্ছে। গরম চলে গিয়ে শীত পড়ছে। তার মধ্যে মেঘ-বৃষ্টির খেলা তো চলছেই। এই সময়েই আবার বিভিন্ন সাধারণ জ্বর-সর্দির ভাইরাসও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

জ্বর-সর্দি-কাশি-গলা ব্যথা হলেই যে করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন, তা কিন্তু একেবারেই নয়। এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল- আপনি বা আপনার পরিবারের কোনও সদস্য এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা কিভাবে বুঝবেন?

করোনা আক্রান্ত রোগীকে চিহ্নিত করার বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে। সেই পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট টেস্ট কিট প্রাইমারের সাহায্যেই একমাত্র এই রোগ নির্ণয় করা যায়। আসুন জেনে নিই কিছু নিয়ম:-

স্বোয়াব টেস্ট: একটা লম্বা টিউবে তুলা জড়িয়ে রোগীর মুখ হাঁ করিয়ে গলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয় এক্ষেত্রে। মূলত তুলায় রোগীর যে লালা লাগবে, সেটাকেই নমুনা হিসাবে ব্যবহার করা হয়। সেই নমুনা ঢাকা পিসিআর ল্যাবের ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর পর ৪-৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট আসে।

স্পুটাম টেস্ট: ফুসফুসে কোনও রকম সংক্রমণ হলেই প্রচুর পরিমাণে মিউকাস নির্গত হতে থাকে। ফুসফুসের এই মিউকাসকই হল স্পুটাম। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসফুস থেকে যে মিউকাস নির্গত হয়, সেই নমুনা সংগ্রহ হল স্পুটাম টেস্ট। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নমুনা সংগ্রহ করলেও আর এই স্পুটমের রিপোর্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। কারন ঢাকা ছাড়া আর কোথাও হয়না।

রক্ত পরীক্ষা: শরীরে কোনও রোগ-জীবাণু বাসা বাঁধলে রক্তের সংস্পর্শে তা আসবেই। করোনা ভাইরাস বাতাসবাহিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বলে গলা ব্যথা ও সর্দির মাধ্যমে এই অসুখের সূত্রপাত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। সঙ্গে জ্বর তো থাকেই। শরীরে রক্তের মধ্যেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। তাই রোগীর রক্তের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। রোগীর রক্ত পরিক্ষা গুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হয়। তবে কিছু কিছু পরিক্ষা ঢাকায় করাতে হয়।

তবে এখনও পর্যন্ত যে ৩টি পদ্ধতির করা উল্লেখ করা হল, তা রোগীর থেকে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি মাত্র। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে এ ৩টি পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহের পর বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কিছু পরিক্ষা হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে বাকি কিছু পরিক্ষা ঢাকায় করার মাধ্যমেই একমাত্র রোগীর শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত করা হয়।

করোনা ভাইরাস শনাক্ত পরিক্ষাটি হলে আরটি-পিসিআর বা রিয়েল টাইম পলিমিরেজ চেন রিঅ্যাকশন। রোগীর থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে যে সমস্ত নমুনা সংগ্রহ করা হল, সেই নমুনায় করোনা ভাইরাস রয়েছে কি না তা জানতেই ঢাকা বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে এই আরটি-পিসিআর করা হয়।

এর জন্য ওই আরটি-পিসিআর ল্যাব গুলোতে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট যন্ত্র রয়েছে। সেই যন্ত্রে করোনা ভাইরাসের জেনেটিক কপি রয়েছে। এখন রোগীর থেকে সংগৃহীত নমুনার সঙ্গে মেশিনে থাকা ওই ভাইরাসের জেনেটিক কোড মেলানো হয়। যদি মিলে যায়, তা হলে রোগী করোনা পজিটিভ। যদি না মিলে তাহলে রোগী করোনা নেগেটিভ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন জানান, প্রতিদিন ৪০-৫০জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগে প্রতিদিন ৬০-৭০জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়তো। কিন্তু এখন নমুনা দিতে কম আসে, যার কারনে আক্রান্ত সংখ্যা কম হচ্ছে। হাসপাতালের ভিতরে করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। ঠান্ডা কাশী ও শ্বাসকষ্ট রোগীদের জন্য হাসপাতালের মাঠের দক্ষিন পাশের বিএমএ ভবনে আলাদা ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

November 2020
M T W T F S S
« Oct   Dec »
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  
আরও পড়ুন