২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং | ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

EN

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সপরিবারে গরিবের রেশন কার্ড নিলেন চেম্বারের নেতা শাহআলম !

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ণ , ১১ মে ২০২০, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে মানবেতর দিন কাটছে বহু মানুষের। কর্মহীন ও হতদরিদ্রদের জন্য ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এবার ভিক্ষুক, ভবঘুরে, সাধারণ শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা চালক, ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক, চায়ের দোকানদার ও হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষের সুবিধার্থে রেশন কার্ড দিচ্ছে সরকার। এই রেশন কার্ডের তালিকায় পাঁচতলা ভবন মালিক আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী-সন্তান ও শ্যালকের নাম রয়েছে।

এই অবস্থা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের পাঁচতলা ভবন মালিক জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক শাহআলম রেশন কার্ডের তালিকায় নাম উঠিয়েছেন।

জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে বিশেষ ওএমএস চালু হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায়। ৯ হাজার ৬’শ জনকে দেয়া হচ্ছে এই সুবিধের কার্ড। যা রেশন কার্ড হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেছে।

একটি সূত্রে জানা যায় ১০ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ভাই-আত্নীয়স্বজন,ওএমএস ডিলারের পরিবার ও ধনাঢ্যদের নামে ঠাসা তালিকা।

প্রথম দফায় প্রত্যেক ওয়ার্ডে ৫’শ জনের তালিকা হয়। যারা এরইমধ্যে ১০ টাকা কেজিতে ২০ কেজি চাল পেয়েছেন। তবে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি গ্রামেই চাপা ক্ষোভ বিশেষ ওএমএস সুবিধার কার্ড নিয়ে। মহল্লার মুদি দোকানি থেকে শুরু করে সবাই জানেন কারা পেয়েছে এই সুবিধা, কে বানিয়েছেন তালিকা। কিন্তু ভয়ে মুখ খুলেন না তারা।

মহল্লার প্রবেশ মুখে মোতাহার ম্যানশন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মোহাম্মদ মোতাহার হোসেনের এক ছেলে লন্ডন প্রবাসী। পাশাপাশি ৫তলা দুটি ভবন রয়েছে তাদের। তারই এক ছেলে কাজী অপু সারোয়ারের স্ত্রী এ্যানি সারোয়ারের নাম রয়েছে ভোক্তা তালিকার ৩৪ নম্বরে।

১০ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক মো. শাহআলমের পরিবার ও স্বজনদের কারো নামই বাদ নেই রেশন কার্ডের তালিকায়। ভোক্তা তালিকার ১৬ নম্বরে রয়েছে তার স্ত্রী মোছাম্মৎ মমতাজ আলমের নাম। ১২ নম্বরে মেয়ে আফরোজার নাম। তার তিন ভাইবোন মো. সেলিম, মো. আলমগীর ও শামসুন্নাহারের নাম রয়েছে ৮, ৯ ও ২৭ নম্বর ক্রমিকে। আরেক ভাই খোরশেদ মিয়ার ছেলে নাছিরের নাম রয়েছে ৭ নম্বরে। নাছির প্রবাসী। ৩ নম্বরে রয়েছে শ্যালক মো. তাজুল ইসলামের নাম। শ্যালকের স্ত্রী আসমা ইসলামের নাম ৫ নম্বরে। আরেক শ্যালকের স্ত্রী মোছাম্মৎ জান্নাতুল ইসলামের নাম রয়েছে ১০ নম্বরে। বোনের তিন দেবর মতিউর রহমান, মাহবুবুর রহমান, লুৎফুর রহমানের নাম রয়েছে ৭২, ৭৩ ও ৭৪ নম্বর ক্রমিকে। আরেক শ্যালক প্রবাসী শফিকুল ইসলামের নামও রয়েছে তালিকার ১৩ নম্বরে।

মো. শাহ আলমের কাছে তালিকায় পরিবারের সদস্যদের নাম থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়টা কাউন্সিলর বলতে পারবে। আমার ভাই মহল্লার সর্দার। আমাকে বলেছে মহল্লার মধ্যে হতদরিদ্র এবং নিম্ম মধ্যবিত্ত যারা আছে তাদের তালিকা করার জন্য। এই তালিকা তার (কাউন্সিলরের) কাছে পাঠানো হয়েছে। সে এবং পৌরসভা যাচাই-বাছাই করে ফাইনাল করবে। তাছাড়া আমি কোনো কার্ড বন্টন করিনি। আমি হলাম ডিলার। ডিলার কোন কার্ড দিতে পারেনা।

তবে শাহআলমের দু-ভাইয়ের নাম তালিকায় দেখেছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন,এ বিষয়ে আমি সৎ পথে রয়েছি। আমার জানামতে কোনো ভুল করিনি।

সংগৃহীত আশেক আহমেদ

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

আরও পড়ুন