২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

EN

মাওলানা জুবায়ের আনসারীর জানাজায় অংশগ্রহনকারী গ্রামের মানুষের করোনা উপসর্গ নেই

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ , ২ মে ২০২০, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি॥ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর নামাজে জানাজায় অংশগ্রহনকারী গ্রামের মানুষের মধ্যে করোনার উপসর্গ পাওয়া যায়নি। জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এটি নিশ্চিত করেছে। জানাযার পর করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার ৭ গ্রামের প্রায় ৩০/৩৫ হাজার মানুষের ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয় পুলিশ প্রশাসন। যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে গতকাল শনিবার।
গত ১৮ই এপ্রিল সকালে মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর নামাজে জানাযা সরাইলের বেড়তলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে তার প্রতিষ্ঠিত জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাখো লোকের সমাগম হয়। মাঠে জায়গা না হওয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার অংশে জানাজার নামাজ বিস্তৃত হয়। এরপর ওইদিন সন্ধ্যা থেকে এসব গ্রামের মানুষকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। কেউ যেন ঘর থেকে না বের হন সেজন্য গ্রামগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। কোয়ারেন্টিন চলাচালে কেউ যেন ঘর থেকে বের না হন সেজন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যের সমন্বয়ে যুবসমাজদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সসস্যরা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেন।
হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন সরাইলের ৪টি গ্রাম বেড়তলা, বড়িবাড়ি, সীতাহরন, শান্তিনগর এবং আশুগঞ্জ উপজেলার খড়িয়ালা, বগুইর, মৈশার। তবে কোয়ারেন্টিনের এই ১৪ দিনে গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে সেভাবে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা যায়নি। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো: নোমান মিয়া জানান, তাদের এলাকাধীন ওইসব গ্রামের মানুষজনের মধ্যে বিরতিহীনভাবে ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। তবে তাদের মধ্যে কারো সংক্রমন পাওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান- গোটা উপজেলায় মোট ৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এপর্যন্ত। এরমধ্যে তেরকান্দা গ্রামের এক নারীর ফলাফল পজেটিভ আসে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বক্ষব্যাধি হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ জানান, ওইসব গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সেভাবে করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মো. মুসা জানান, লকডাউনে পুরো উপজেলা আমরা যেভাবে তদারকি করি সেভাবেই বেড়তলাসহ অন্যান্য গ্রামগুলোকে তদারকি করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কাসপাড়ার নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারী।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

আরও পড়ুন