২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

EN

কসবায় সাইদুর হত্যার রহস্য উন্মোচন, ঘাতক চাচা গ্রেফতার:

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ২:০০ পূর্বাহ্ণ , ১৪ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 years আগে

গত ইং ৩১/১২/২০১৯ তারিখ কসবা থানায় একটি নিখোঁজ জিডি হয় যাহার নং-১৩২৫। নিখোঁজের মা জিডির আবেদনে জানান যে, তাহার ছেলে মোঃ সাইদুর রহমান(১৯) গত ইং ২৯/১২/২০১৯ তারিখ রাত অনুমান ২০.০০ ঘটিকার সময় কসবা থানাধীন কাঞ্চনমুড়ি সাকিনস্থ নিজ বাড়ী হইতে কাউকে কিছু না বলে বের হয় এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায় নাই।

উক্ত জিডির পরিপ্রেক্ষিতে কসবা থানার এসআই(নিরস্ত্র)/মোঃ আনোয়ার হোসাইন অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেন। নিখোঁজের আত্মীয়-স্বজনও চারদিকে খোঁজাখুজি শুরু করে। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে গত ইং ০২/০১/২০২০ তারিখ সকাল ০৯.৩০ ঘটিকার সময় কসবা পৌরসভাস্থ কাঞ্চনমুড়ি এলাকার ড্রেজার মাঠের পরিত্যক্ত বাথরুমের সেপ্টি ট্যাংকির ভিতরে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মৃতদেহের একটি হাত দেখা গেলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে সংবাদ দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে কসবা থানা পুলিশ এবং জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন পিপিএম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃত দেহটি সেপ্টি ট্যাংকি হইতে উত্তোলন করে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে নিখোঁজ মোঃ সাইদুর রহমান এর লাশ সনাক্ত হয়।  মৃতদেহের ময়না তদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। লাশটির মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় বাম পাশ থেকে ধারালো অস্ত্রের কাটা চিহ্ন ছিল।

উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের মা মোছাঃ হনুফা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করিলে কসবা থানার মামলা নং-০৩, তারিখঃ-০২/০১/২০২০খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে কসবা থানা পুলিশ এবং ডিবি পুলিশের টিম যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে  গত ইং ১২/০১/২০২০ তারিখ কসবা থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করে।এ সময়  নিহত সাইদুর রহমান এর ব্যবহৃত মোবাইলটি উদ্ধার হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা এবং লাশ গোপন করার কথা স্বীকার এবং পরবর্তীতে আসামীর দেখানো মতে হত্যার ঘটনার ব্যবহৃত ক্ষুরটি উদ্ধার করে।   জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায় নিহত সাইদুর আর তার বাড়ী পাশাপাশি। সাইদুর তার ভাতিজা সাইদুর তাকে কাকা বলে ডাকে। তারা সমবয়সী বিধায় একসাথে চলাফেরা করে। সাইদুর সিএনজি ড্রাইভার সময় পাইলেই তারা একসাথে সিগারেট খায় ও জুয়া খেলে। জুয়াতে প্রায় সময় সাইদুর জিতে। এলাকায় চুরি এবং মেয়ে সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে সে এলাকা ছেড়ে চলে আসে। সে শীতলপাড়ায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো এবং সেখানে কন্ট্রাক্টারের সাথে থাকতো। মাঝে মধ্যে গোপনে গোপনে নিজ বাড়ী কাঞ্চনমুড়ি যেতো। গত ২৯/১২/১৯খ্রিঃ অনুমান ০৫.০০ ঘটিকার দিকে সে সীমান্ত কমপ্লেক্স এর সামনে পৌর সিএনজি ষ্টেশনে যায়। সেখানে গিয়ে সাইদুরকে তার সিএনজির পাশে দাড়িয়ে থাকতে দেখে। তখন সাইদুর তাকে দুটি সিগারেট আনতে বলে। সে টাকা দিতে বললে সাইদুর মানিব্যাগ বের করে তাকে ১০ টাকা দেয়। ঐ সময় সাইদুরের মানিব্যাগে সে অনেক টাকা দেখে। ৪/৫ মাস পূর্বে সাইদুর একটি দামি মোবাইল সেট কিনে। তার সাথে থাকা টাকা ও মোবাইলের প্রতি তার খুব লোভ হয়। সেই লোভে সাইদুরকে প্রস্তাব দেয় রাতে একটা লোক ৫০০ পিচ ইয়াবা নিয়ে আসবে এবং নোয়াগাঁও পৌছে দিলে তাদেরকে ৪,০০০/- টাকা দিবে। তখন সাইদুর সিএনজি নিতে চাইলে, রানা বলে  সিএনজি লাগবে না; তারা ড্রেজার মাঠ হইতে কোনাকুনি হেটে নোয়াগাঁও নিয়ে যাবে। পরে তারা দুইজনে ড্রেজার মাঠে মিলিত হয় মাঠের পাশে একটি লাউয়ের মাচা ছিল যাতে বাঁশের খুটি ছিল। সাইদুর মোবাইলে তার প্রেমিকার সাথে কথা বলার ফাঁকে আসামী রানা একটি বাঁশের খুটি তুলে,সাইদুর কথা বলতে বলতে পিছনে ফিরলে সে তার মাথার পিছনে জোরে আঘাত করলে বাঁশটি ভেঙ্গে যায় এবং সাইদুর মাটিতে বসে পড়ে। তখন সে সাইদুরকে ঝাপটে ধরে এবং তার গলায় থাকা মাফলার দিয়ে গলায় পেচাইয়া ধরে। সাইদুর তখন বাচার জন্য চেষ্টা করলে ক্ষুর দিয়ে তার গলায় পোচ মারলে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায়। ঐসময় রানা মোবাইল এবং ম্যানিব্যাগ নিয়ে সাইদুর এর লাশ ও ক্ষুরটি মাঠের পাশে মাদ্রাসার পরিত্যক্ত বাথরুমের সেপ্টিক ট্যাংকিতে টেনে এনে ফেলে দেয়। সেখান থেকে শীতলপাড়া হয়ে  কুমিল্লায় তার আপন ভাইয়ের বাসায় যায়। সেখানে দুই দিন ছিল।

গতকাল সন্ধ্যায় কসবা থানাধীন শীতলপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ সাইদুরকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আসামীর দেখানো মতে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত ক্ষুরটি কাঞ্চনমুড়ি সাকিনের ড্রেজার মাঠের পরিত্যাক্ত বাথরুমের সেপ্টিক ট্যাংকির ভিতর হতে এবং নিহত মোঃ সাইদুর রহমান এর ব্যবহৃত মানিব্যাগটি কসবা পৌরসভাস্থ জনতা টাওয়ার সংলগ্ন ড্রেন হতে উদ্ধার করা হয় বলে প্রেস ব্রিফিং করে জানান জেলা  পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

January 2020
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
আরও পড়ুন