২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

EN

সড়ক নিরাপদ হতেই হবে

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ , ২ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 years আগে

সড়কে বা জনপথে দুর্ঘটনা নতুন নয়; কিন্তু এর প্রতিবাদে গত তিন দিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যেভাবে রাজপথে নেমে এসেছে, তা অভূতপূর্ব। বস্তুত রোববার বিমানবন্দর সড়কে যেভাবে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর বাস তুলে দেওয়া হয়েছিল, তারও নজির নিকট অতীতে দেখা যায় না। স্বাভাবিকভাবেই এই দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়া হয়েছে ব্যাপক। দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী ও সড়ক পরিবহন খাতের নেতা শাজাহান খান যে বাক্য ও শরীরী ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা যেন আগুনে ঘি ঢেলেছিল। অবশ্য ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাকে সতর্ক করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবর। আমরা দেখেছি, পরদিন তিনি নিজেও এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পুলিশ ও সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রতি কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে- লাইসেন্সবিহীন কোনো যান যেন সড়কে চলতে না পারে। কিন্তু তাতেও রাজপথে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কমেনি, বরং বেড়েছে। বুধবার রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে আরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। ঘটেছে ভাংচুরের ঘটনাও। বিভিন্ন স্থানে তারা নিজেরাই গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখছিল। এর জের ধরে নারায়ণগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ীতে পরিবহন শ্রমিকদের বেপরোয়া আচরণের শিকার হয়েছে বিক্ষোভকারীরা। তার আগের দিন কোথাও কোথাও পুলিশও ছিল মারমুখী ভূমিকায়। স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের প্রতি পুলিশের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবশ্য দ্রুতই পদক্ষেপ নিয়েছে। সর্বোচ্চ সহিষুষ্ণতা দেখিয়ে জনদুর্ভোগের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর নির্দেশ দিয়েছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন মন্ত্রীও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক ও ক্ষোভকে সঙ্গত আখ্যা দিয়েছেন। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। খুব সম্ভবত এই প্রথম পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো তাদের প্রতি জনসাধারণের ক্ষোভের মাত্রা অনুধাবন করতে পেরেছে। বছরের পর বছর বেপরোয়া আচরণ যে চলতে পারে না, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাও যৌক্তিক সন্দেহ নেই। কারণ দিনের পর দিন এভাবে রাজপথ অচল থাকতে পারে না। জরুরি সেবা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা দেখেছি, বুধবার বিকেল নাগাদ ঢাকার সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েও এসেছে। আমরা চাইব, শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ আন্তরিক থাকবে। বিশেষত সড়কে নামার আগেই গাড়ির ফিটনেস ও চালকের স্বাভাবিকত্ব নিশ্চিত করতেই হবে। চালকের বেপরোয়া আচরণে কিংবা যানবাহনের ত্রুটির কারণে আর একটি প্রাণও আমরা হারাতে চাই না। সরকারের পক্ষে নতুন আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে গতি আনতেই হবে। আমরা চাই, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হোক। পরিবহন মালিক, শ্রমিক, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে আন্তরিক হলে তা অধরা থাকতে পারে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ত ও বিক্ষোভের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন হবে সেটাই।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

August 2018
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
আরও পড়ুন