২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ ইং | ১৪ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

EN

জ্বালানী সেক্টর সমৃদ্ধের আশা ব্রাক্ষনবাড়িয়া নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা. চলছে

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১:০৮ পূর্বাহ্ণ , ১৩ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 years আগে

সম্পূর্ন নতুন একটি গ্যাস জোন আবিষ্কারের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কার হওয়ার পথে। এ গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কার হলে দেশের জ্বালানী সেক্টরের অভূত পূর্ব উন্নতি সাধিত হবে। নব আবিষ্কৃত এই গ্যাস ক্ষেত্রটি টু-ডি ও ত্রি-ডি সাইসমিক সার্ভের উপর ভিত্তি করে প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাটির অন্তত ২৪’শ, ২৫’শ, ২৮’শ ও ৩ হাজার মিটার গভীর তলদেশে সম্ভাবনাময় এ প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভান্ডার রয়েছে। ভূ-তত্ত্ববিদগন জানিয়েছেন, দেশের অন্যতম গ্যাস ভান্ডার হবে কসবার নতুন এ গ্যাস ক্ষেত্রটি। ইতোমধ্যে অনুসন্ধান মূলক খনন কাজও শুরু করেছে বাপেক্স সরকারের রূপকল্প-৩ এর আওতায় কসবা-১, মাদারগঞ্জ, জামালপুর ও শৈলকুপায় অনুসন্ধান কূপ খনন কাজ শুরু হয়েছে। কসবার পৌরসভার অভ্যন্তরেই গত ২৭ এপ্রিল অনুসন্ধান কূপের কমিশনিং কাজ শুরু হয়। এরপর ১ মে থেকে ড্রিলিং কাজ শুরু হয়েছে। বাপেক্স নিজস্ব জনবল ও রিগ দিয়ে এ কাজটি শুরু করে। গ্যাস ডেভেলপম্যান্ড ফান্ডের অর্থায়নের প্রায় ৩শ ৮২ কোটি টাকা ব্যায়ে পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। কসবা এ প্রকল্পে ব্যায় ধরা হয়েছে ৯০ কোটি টাকা। প্রায় সাড়ে ৫ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত এ অনুসন্ধানি কূপের খনন কাজ এক তৃতীয়াংশ সম্পর্ন হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ মাসের শেষের দিকে এ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে ২ হাজার ৬৫ মিটার খনন কাজ শেষ হয়েছে। ভ্যার্টিকাল (খাড়াখাড়ি) পদ্ধতিতে মাটির ৩ হাজার মিটার গভীরে ড্রিলিং পাইপ বসানো হবে। ইতোমধ্যে লগিং কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, লগিং এর মাধ্যমে মাটির তলদেশে বিশেষ ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে মাটির স্তরের অবকাঠামো ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরই ক্যাচিং পাইপ স্থাপনসহ পরবর্তী ড্রিলিং সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী মাসের শেষের দিকে কূপের টেষ্টিং আনুষাঙ্গিক কাজ শুরু করা যাবে বলে ভূ-তত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন। সূত্র জানিয়েছে, ড্রিলিং পাইপ যতই গভীরে যাচ্ছে ততই কঠিন শিলাস্তর ও শক্ত বস্তর কারনে খনন কাজ গতি কমে আসছে। ড্রিলিং কাজে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন ১’শ মিটার ড্রিলিং করা গেলেও এখন মাত্র ৫০/৬০ মিটার ড্রিলিং করা যাচ্ছে। অনুসন্ধানি এ কূপে গ্যাস পাওয়া গেলে আশপাশে আরো একাধিক কূপ খনন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে সালদা নর্থে (উত্তর) ও নতুন গ্যাস কূপ খনন চলছে। অনুসন্ধানি এ কূপের পাইপ ১১শ ৬৪ মিটার মাটির তলদেশে প্রবেশ করেছে। ৩৫’শ মিটার তলদেশ থেকে গ্যাস উত্তোলনের আশা করছে তারা। ভূ-তত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, যতটুক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট আসছে তাতে ভূ-তাত্বিক অবস্থা খুবই ভালো। সালদা নর্থে গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা খুবই উজ্জল। এতে ৮৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যায় হবে। রূপকল্প-১ এর আওতায় দেশের ৫টি অঞ্চলে গ্যাস কূপ খনন হবে। এতে ব্যায় হবে ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। গ্যাস ডেভেলাপম্যান্ট ফান্ড (জিডিএফ) এর অর্থায়নে অনুসন্ধানি এ কূপের খনন চলমান। গত ৮ মে থেকে এ কূপের খনন কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জুন এ কূপের খনন কাজ শেষ হওয়ার কথা। কূপগুলো খনন হলে ওয়্যার লাইন লগিং এর মাধ্যমে ডিএসপি টেস্টিং করে গ্যাস জোনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাবে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, সালদা ও কসবা গ্যাস ক্ষেত্রের ভূ-গঠনের অংশ সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী দেশ ভারতের মধ্যে বিস্তৃত রয়েছে। তবে মূল রিজার্ভ বাংলাদেশ অঞ্চলে। ’৮০-৯০ দশকের মধ্যে এ অঞ্চলের গ্যাস উত্তোলনেরর তোরজোর শুরু হলেও তেমন সফল হয়নি সংশ্লিষ্টরা। তবে বহু আগ থেকেই এ স্তর থেকে ভারত বিপুল পরিমান গ্যাস উত্তোলন করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ২টি গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদিক গ্যাস জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করা হবে বলে জানা গেছে। কসবার এক গ্যাস ক্ষেত্রের ২’শ থেকে আড়াই বিলিয়ন ঘণফুট রয়েছে বলে ভূ-তত্ত্ববিদরা ধারনা করছেন।

মনির হোসেন টিপু

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

July 2018
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
আরও পড়ুন