১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

EN

বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো : প্রধানমন্ত্রী

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ , ১ এপ্রিল ২০১৮, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 years আগে

বিশেষ সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো। এটাই আমাদের নীতি, সিদ্ধান্ত। শনিবার প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভার শুরুতে বক্তৃতাকালে এ মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়। বাংলাদেশ সম্প্রতি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করায় সভার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, অন্যের মুখাপেক্ষী না হলে দেশ নিজেদের সম্পদেই উন্নত হবে। মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে নিজেদের চিন্তা করতে হলে নিজেদের সম্পদ দিয়েই উন্নতি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের থেকে কিছু সহযোগিতা নেবো, বিদেশি বিনিয়োগ আনবো, এই বিনিয়োগ আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু সেই সঙ্গে নিজেদের সম্পদ থাকতে হবে, যেন কারও মুখাপেক্ষী হতে হতে হয়। কারও কাছে যেন ছোট হয়ে চলতে না হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারা আর সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করাই বিএনপি-জামায়াতের চরিত্র। আমরা ক্ষমতায় এসে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা যে উন্নয়ন করেছি, তা মানুষের মাঝে তুলে ধরতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাবস্থায় আওয়ামী লীগের জনসভায় তার নৌকা প্রতীকে ভোট চাওয়ার বিষয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমি তো নৌকায় ভোট চাইতেই পারি, কারণ আমি দলের সভানেত্রী, আমি যেখানে যাবো, সেখানেই ভোট চাইবো।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী হিসেবে নৌকায় ভোট চাওয়া আমার রাজনৈতিক অধিকার। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অবশ্যই আমাদের সবাইকে জনগণের কাছে যেতে হবে। নৌকায় ভোট চাইতে হবে। সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে একমাত্র নৌকায় ভোট দিলেই উন্নতি হবে। দেশের উন্নয়ন করার সুযোগ চাই।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে দেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলো, তারা দেশকে পিছিয়ে দেয়। জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে খুনিদের, স্বাধীনতা বিরোধীদের, যুদ্ধাপরাধীদের পুরস্কৃত করেছিল, ক্ষমতায় বসিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী বানিয়েছিলো। স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিল। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছিল এরশাদ-খালেদা জিয়া। তারা চায়নি দেশ এগিয়ে যাক, শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নত হোক। দুর্নীতি ছিলো তাদের নীতি। তারা নিজেদের ভাগ্য গড়েছে। নিজেদের আখের গোছাতে ক্ষমতায় এসেছে। তারা চাইলে দেশ অনেক আগেই উন্নত হতো।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়নে কাজ শুরু করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ শুরু করি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার কারণে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়েছিলো, সেজন্য আজ দেশে উন্নতি চলছে, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যে উপাত্তগুলোর প্রয়োজন ছিল, তার প্রত্যেকটিই অর্জন হয়েছে। তাদের যে চাহিদা ছিল, তার থেকে বেশি অর্জিত হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। অর্জনের সম্মান ধরে রাখতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

April 2018
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  
আরও পড়ুন