২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ ইং | ১৪ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

EN

আশুগঞ্জে প্রভাবশালী ইজারাদারদের অবৈধ ড্রেজিংয়ে দেড়শ একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ , ২৪ মার্চ ২০১৮, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 years আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের চরচারতলা ও চর লালপুর চরে রাতের আধাঁরে ও দিনে দুপুরে বালু মহালের প্রভাবশালী ইজারাদারদের অবৈধ ড্রেজিং এর কারনে দেড়শ একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মেঘনা নদীতে বালু মহালের নির্ধারিত জায়গা থাকলেও মালিকানাধীন ফসলি জমিতে একাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ফসলি জমি কেটে নিচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি মহল। মাটি কেটে নেওয়ায় বর্তমানে ভাঙ্গনের কারনে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কাছে কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও ড্রেজার মালিকরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই এলাকায় অবাধে বালু উত্তোলন করছেন। এছাড়াও মানা হচ্ছে না বালু মহালের কোন নিয়ম কানুন।

লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর পাশের চরচারতলা, চরলালপুর, রায়পুরা ও বেগমাবাগ এলাকার বালু মহাল ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জন্য উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. সেলিম পারভেজ, চরচারতলা এলাকার মো. জয়নাল মিয়া, লালপুরের ডা. ফারুক, রফিক ও নরসিংদীর চানপুরের সুলতান মিয়া ইজারা নেয়। প্রভাবশালী হওয়ায় তারা বালু মহালের নির্ধারিত যায়গায় ড্রেজিং না করে বালু মহালের নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে তার বিপরিতে বিএস খতিয়ানের নক্সাভ’ক্ত মালিকানাধিন চরে গিয়ে রাতের আধাঁরে ড্রেজিং করে। এতে প্রায় ১’শ ৫০ একর ফসলি জমি কেটে নিয়ে যায় প্রভাবশালীরা। এতে করে জমির মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত গভীর করে মাটি কেটে নেয়ায় প্রতিনিয়ত ভাঙন হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইজারাদারদের সাথে কথা বললেও তারা বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না দেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এতে করে যেকোন সময় উভয় পক্ষের মধ্যে দাঙ্গা হাঙ্গামা হয়ে এলাকার আইনশৃক্সক্ষলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রায় ৮০ জন ভূক্তভোগী জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছেন। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর চরলালপুর ও চরচারতলা মৌজাসহ কয়েকটি এলাকার ফসলি জমি ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হতে চলেছে। পাশাপাশি নদীর কিনারায় গিয়ে দেখা যায় একসাথে সততা, ফাইভস্টার, মৌসুমী, মায়ের দোয়াসহ কয়েকটি ড্রেজার মাটি কাটছে। ড্রেজিং করার সময় আশপাশে সতর্কতা চিহ্ন দেয়ার কথা থাকলেও তা দেখা যায়নি। এছাড়াও নদীর কিনারা থেকে প্রায় ৩’শ ফুট দূরে মাটি ড্রেজিং করার কথা থাকলেও সেটিও মানা হচ্ছে না। বালু মহালের নির্দিষ্ট সীমানা দেয়া থাকলেও এর কোন তোয়াক্কা না করে যত্রতত্রভাবে মাটি ড্রেজিং করা হচ্ছে। এছাড়াও সকাল সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মাটি কাটার কথা থাকলেও রাতের অন্ধকারে মাটি কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। এদিকে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দাখিল করার পরও টনক নড়েটি ড্রেজার মালিকদের। দেদারসে চলছে বালু উত্তোলন। সেখানে নিয়ম নীতির কোন বালাই নেই। এদিকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বিষয়টি আপোষ করেছেন ড্রেজার মালিকরা। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়ার আস্বাস দিলে বিষযটি প্রাথমিকভাবে শেষ হয়। তবে ভ’ক্তভোগীরা এই বিষয়ে কোন কথা বলেন নি।

লালপুরের ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকজন জমি মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে যখন নদীতে পানি বেশী ছিল তখন আমরা বিষয়টি টের পাইনি। পানি কমার সাথে সাথে আমরা বুঝতে পারি আমাদের ফসলি জমি কেটে নেয়া হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে তাদের সাথে কথা বললেও তারা আামাদের কোন পাত্তাই দেয়নি। তাই আমরা বাধ্য হয়েই অভিযোগ করেছি।

ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিক খলিলুর রহমান জানান, আমরা অভিযোগ দেয়ার পর তড়িঘড়ি করে ড্রেজার মালিকরা আমাদের সাথে আপোষ করার জন্য প্রভাবশালীদের নিয়ে শালিসে বসেছে। তারা আমাদের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়ার আস্বাস দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও ড্রেজার মালিক মো. সেলিম পারভেজ ও জয়নাল মিয়া জানান, আমরা বালু মহালের ইজারার নিয়ম অনুযায়ী নদীতে ড্রেজিং করেছি। সব ধরনের নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। ফসলি জমি আমরা ড্রেজিং করি নাই। যে অংশে ভাঙ্গনের সৃস্টি হয়েছে তা সরকারী যায়গা। তবে এলাকাবাসীর অনুরোধে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ জমি যেন ঢেউয়ের কারনে ভেঙে না যায় সেজন্য মাটি ফেলে আমরা একটি বাধঁ দিয়ে দিচ্ছি। বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভ’মি) শাহীনা আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হয়েছে। এ ব্যাপারে এলাকার ক্ষতিগ্রস্থরা আমাদের কাছে তাদের লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। আমরা আমরা একটি তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পাঠিয়েছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবদন এখনো আমার কাছে পৌছে নাই। তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ড্রেজার মালিকরা যদি দাবি করে থাকেন এই জমি সরকারের তাহলেও তাদের ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আরো জানান অভিযোগকারীরাই যদি মিমাংসা করে ফেলে তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ করে আর কি হবে। তবে আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

March 2018
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
আরও পড়ুন