৬ই অক্টোবর, ২০২২ ইং | ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

EN

‘এটা সব বাংলাদেশির জন্য দুঃখের দিন’

বার্তা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ , ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 years আগে

ম্যানহাটনে বোমা হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকের নাম আসায় অস্বস্তিতে পড়েছেন এখানকার বাংলাদেশিরা। গতকাল সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। আয়োজনে ছিল বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন-বাপা। নিউইয়র্ক পুলিশবাহিনীতে কাজ করা কয়েক শ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশের সংগঠন এটি।

সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট শামসুল হক বলেন, ‘এটা আমাদের সব বাংলাদেশির জন্য একটি দুঃখের দিন। আমরা এখানে আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে দাঁড়িয়েছি, বাংলাদেশি পুলিশ সদস্য হিসেবে আমরা সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতি নিন্দা এবং ঘৃণা জানাচ্ছি। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কেবল তাদের মাধ্যমেই সংগঠিত হয়, যারা সন্ত্রাসী। সেই সন্ত্রাসীদের একজন হিসেবে একজন বাংলাদেশির নাম এসেছে, এটাতে আমরা মর্মাহত।’

অনুষ্ঠানে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিউইয়র্ক পুলিশের সতর্কতামূলক পোস্টার এবং ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। সবার প্রতি অনুরোধ রাখেন, ‘কেউ কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাবেন।’

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ সদস্যরা ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রায় সব পত্রিকার সম্পাদক, বিভিন্ন সংগঠনের প্রধান ও সমাজকর্মীরা।

মাওলানা কাজী কাইয়ুম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা একটা জঘন্য দিন আমাদের জন্য। একেকটি ঘটনা ঘটলে আমরা কিছু নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ করছি আর ঘৃণা জানিয়েই আমাদের দায়িত্ব শেষ করছি। কিন্তু এই ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য কোনো সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছি না।’

স্থানীয় পত্রিকা সাপ্তাহিক বাঙালির সম্পাদক কৌশিক আহমেদ বলেন, ‘এ রকম ঘটনা বা শঙ্কা আমরা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছি অনেকবার। আমাদের ছেলেমেয়েরা জিহাদি কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি নিউইয়র্কে জামায়াত-সমর্থক সবচেয়ে বড় সংগঠন মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা-মুনা’র সদস্য ছিলেন—এমন বক্তব্যের জবাবে মুনার প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি সদস্যের নাম-ঠিকানা আমরা লিপিবদ্ধ রাখি। এমনকি আমাদের কোনো অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের নামও লিপিবদ্ধ করা হয়।’ নিশ্চিত করে তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মুনার কোনো সদস্য নন। এই মর্মে একটি প্রেস রিলিজও পাঠিয়েছেন প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা অফিস বরাবর।

এ সময় সাউথ এশিয়ানদের মানবাধিকার সংগঠন ‘ড্রাম’-এর বাংলাদেশি সংগঠক কাজী ফৌজিয়া বলেন, ‘কেউ যেন আগ বাড়িয়ে নিজেদের দোষ স্বীকার করতে মাঠে না নামেন।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এই শহরে হাজার হাজার বাংলাদেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। একজন সন্ত্রাসীর দায় কেন বাংলাদেশের পুরো কমিউনিটি নিতে যাবে। আগে দেখা যাক, এই ঘটনার তদন্তে আসল ঘটনা কী বেরিয়ে আসে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি-অধ্যুষিত একটি এলাকার সিটি কাউন্সিলর ডেভিড উইপ্রিন বলেন, ‘এটা অবশ্যই একটি ঘৃণা জানানোর উপলক্ষ। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, সন্ত্রাসীর কোনো দেশ বা ধর্ম নেই। কেউ যেন এই ঘটনার পর বাংলাদেশি কমিউনিটিকে সন্ত্রাসের সঙ্গে স্টিগমাটাইজড না করতে পারে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’ নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন, নিউইয়র্ক রাজ্যপ্রধান এবং পুলিশপ্রধানেরাও তাঁদের ব্রিফিংয়ে হামলাকারীর জাতীয়তা প্রকাশ করেননি।

চলতি বছরের আগস্টে ব্রুকলিনের ওজন পার্ক এলাকা থেকে ২২ বছরের পারভেজকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। পারভেজ আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে সৌদি আরব হয়ে সিরিয়া যেতে চেয়েছিলেন। ২০১২ সালের অক্টোবরে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করে এফবিআই। কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস (২১) নামের ওই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

December 2017
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
আরও পড়ুন