২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং | ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

EN

কসবায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্টতম সহচর এডভোকেট সিরাজুল হক বাচ্চু মিয়া

মোবারক হোসেন চৌধুরী নাছির

প্রকাশিত: ২:০২ পূর্বাহ্ণ , ২৪ জুলাই ২০১৭, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 5 years আগে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম বড় একটি রাজনৈতিক দলে পরিনত হয়। আমাদের কসবা আখাউড়া মাটি ও মানুষের অহংকার এডভোকেট সিরাজুল হক সাহেব বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে আওয়ামীলীগকে দৃঢ় অবস্থানে পৌছাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ৭১- এ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি তার যোগ্যতা মেধা, বিচক্ষণতার জন্য আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদে অলংকৃত হন। পরবর্তিতে তার আন্তরিকতা, মেধা, সৃজনশীলতার বদৌলতে আওয়ামীলীগ তার কাংখিত লক্ষ্যে পৌছে। আওয়ামীলীগের বর্তমান দৃঢ় অবস্থানের পেছনে তাঁর অবদান অসীম।এডভোকেট সিরাজুল হক বাচ্চু মিয়া ১৯২৫ সালে ১ আগষ্ট বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একটি আদর্শের নাম।একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয় সিরাজুল হক বাচ্চু মিয়া। তাহার গ্রামের বাড়ি পানিয়ারুপ, থানা-কসবা, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পরবর্তিতে নিজেই একটি পতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ৫২ -এর ভাষা আন্দোলন ৬৯ -এর গণ অভ্যূত্থান, ৭০- এর নির্বাচন এবং ৭১- এর মুক্তিযুদ্ধে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর হিসেবে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

(জনাব, এডভোকেট সিরাজুল হক বাচ্চু মিয়া)

অত্যান্ত মেধাবী সিরাজুল হক ছাত্র জীবনের অধিকাংশ সময় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনকের ঘনিষ্ট সহচর হিসেবে কেটেছে। বঙ্গবন্ধুর সাথে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের একই হলে একই কক্ষে থেকেছেন, একই আদর্শে দেশের মানুষের চিরস্থায়ী মুক্তি কামনা করেছেন।কখনো কখনো একই খাবার দু-জনেই ভাগাভাগি করে খেয়েছেন। একই আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তৎকালীন স্বৈর-শাসকের হাতে কারাবরণ করেছেন। তবুও তিনি তাঁর আদর্শ থেকে পিছপা হননি।

৭৫- এর ১৫ই আগস্টের কাল রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডের সাথে সাথেই যে কয়জন নেতা বলিষ্টভাবে প্রতিবাদ জানান এবং নিন্দাজ্ঞাপন করেন তাদের মধ্যে এডভোকেট সিরাজুল হক বাচ্চু মিঞা অন্যতম। শুধু তাই না, খুনি মোস্তাক, ডালিমরা যে সরকার গঠন করেন তার প্রতি অনাস্থা জানান সিরাজুল হক। তিনি অত্যান্ত বলিষ্টতার সাথে মোস্তাক সরকারকে অবৈধ সরকার হিসেবে ঘোষনা করেন।

তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার রাষ্ট্রে পক্ষের প্রধান কৌশলী ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কৌশলী ছিলেন। শত বাধা বিপত্তি ও বিভিন্ন সরকারের রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলা অত্যন্ত সাহসিকতা ও বিচক্ষনতার সাথে চালিয়ে গেছেন। এ মামলার বিপক্ষে দেশী ও বিদেশী ষড়যন্ত্র নিষ্টার সাথে মোকাবেলা করে গেছেন। অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় তিনি তাঁর জীবনদশায় বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলায় রায় দেখে যেতে পারেননি। পরবর্তিতে তার সু-যোগ্য পুত্র, বর্তমান সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক এ মামলার রাষ্ট্র পক্ষের প্রধান কৌশলের দায়িত্ব পালন করেন।বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর বাকী খুনিদের দেশে এনে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার চেষ্টা তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন। অচিরেই আমরা বঙ্গবন্ধুর অবশিষ্ট খুনিদের মৃত্যু দন্ডের রায় কার্যকর হতে দেখব। বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা সিরাজুল হক বাচ্চু মিঞা সাহেব। বিশে^র অন্যতম অনুকরনীয় একটি সংবিধান হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান।এ সংবিধান প্রণয়ণের নেপত্থ্য যে কয়জন বিজ্ঞ আইনজীবি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম সিরাজুল হক বাচ্চু মিয়া। তিনি ছিলেন দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম একজন প্রাঞ্জ আইনজীবি। অত্যন্ত মেধাবী ও গুনী এই রাজনৈতিকবিদ এডভোকেট সিরাজুলহক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা আখাউড়া) নির্বাচনী এলাকা থেকে দুই, দুই বার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দুই মেয়াদেই এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। সন্ত্রাস- মাদক, দূর্নীতিমুক্ত কসবা-আখাউড়া বিনির্মানে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে তাঁর ভূমিকা জাতী আজও শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করে। তিনি , বি,এ (অনার্স), এম এ (ক্যাল) এম এ এল এল বি, ঢাকা, সিনিয়ার এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ২৫ ভিগা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করা, ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা, ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ এর সুদ মওকুফ করা, সকল কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্য সার্বিক এবং আ লিক পর্যায়ে কর্মের সংস্থান করা, যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়নের মধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে সঠিক কাজে নিয়োজিত করা, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করা, আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান, এই নীতির প্রতিষ্ঠা করা, জাতীয় উন্নতির লক্ষ্যে সমাজের সর্বস্তরে সততা প্রতিষ্ঠা করা এবং দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, কসবা এবং আখাউড়ার সার্বিক বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের অন্তর্ভূক্ত করা, কসবা এবং আখাউড়ার সার্বিক যোগাযোগের অসুবিধা দুরীকরনে রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন করা, উপোরোন্ত নীতিমালা এবং কাজ সমূহের বাস্তবায়নে পবিত্র অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ কাজ বাস্তবায়িত করতে না পারলেও, চেস্টার ত্রুটি করেন নি। বর্তমানে তাহার সু-যোগ্য সন্তান এডভোকেট আনিছুল হক, মাননীয় সংসদ সদস্য ও আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রী গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। তাহার বাবার পবিত্র অঙ্গীকার তিলে তিলে পালন করে দেশকে সুন্দরভাবে গড়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এবং কসবায় রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অসহায় ও বি ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে মানুষকে দু-মুঠো ভাত খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। কসবাকে মডেল থানা থেকে শুরু করে সুন্দর কাজের উপহার দিয়েছেন। কসবার মানুষের প্রাণের দাবী রয়েছে কসবা কল্যান সাগরটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে কসবা বাসী দেখতে চায়।

বাংলাদেশের পরিশুদ্ধ রাজনীতির শুদ্ধপুরুষ বাগানপ্রিয় এই মানুষটি ২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুনগ্রাহীদের পাশাপাশি তাঁর যোগ্য স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে যান। তাঁর এক ছেলে বর্তমান সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪(কসবা-আখাউড়া) নির্বাচনি এলাকার সাংসদ প্রখ্যাত আইনজ্ঞ আনিছুল হক। যার হাতে আরো রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রানালয় সর্ম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির দায়িত্বও। যার হাত ধরে কসবা আখাউড়ার মানুষের অসীম উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। তাঁর আরেক সন্তান আরিফুল হক রনি যুক্ত রাষ্ট্রে অত্যন্ত সু-নামের সাথে ব্যবসা করছেন। তিনি ও দেশের মানুষের উন্নয়নে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করেছেন। তিনিও না ফেরার দেশে চলে গেলেন। আর তাঁর সু-যোগ্য সহধর্মিনি জাহানারা হক যার ভাবনায় সবসময় এলাকার উন্নয়ন। আমরা এডভোকেট সিরাজুল হকের বিদেহী আত্মার শান্তি ও পরকালীন মঙ্গল কামনা করি।

লেখক, সাংবাদিক, মানবাধীকার কর্মী ও কলামিস্ট।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

July 2017
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
আরও পড়ুন